Wednesday, January 31, 2018

পবিত্র জোয়ার

পবিত্র জোয়ার

পৃথিবীর গ্রীবাতে পড়েছে
এ কোন হিংস্রক হাত !
সুনামীর ঢেউয়ে ঢেউয়ে আছড়ে পড়ে আর্তনাদ
বরফ-পাহাড়, সাগর, নদী
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে
কূল ছাপিয়ে বসুমতির কোলে
সে কান্নার জল বহে
জমাট বাঁধা ছোপ ছোপ রক্তে লাল
পৃথিবীর সবুজ গালিচা
মৃত্যুকূপ হতে কেবলই বিলাপের ধ্বনি ।

এ কোন সভ্যতার সকাতর চিৎকার !
কাঁদে বিশ্ব
  কাঁদে ধরণী
    আর কেঁদে চলেছে মানবতা … !

স্বাপ্নিক তরুণেরা, এসো !
জড়ো হই স্বপ্নের মিছিলে
পবিত্র নতুন জোয়ারে ভাসবো, ভাসাবো বলে … ।

ফিরোজ, দিলকুশা, 

যে যার মতন

যে যার মতন

কৃপন না করে কভু নিজের অর্থ খরচ,
মিতব্যয়ী প্রয়োজন বুঝে করে টাকার খরচ।
অপব্যয়ী অর্থের খরচ করে খামখেয়ালী ভাবে
নিশ্চয়ই একদিন সে আপসোস করবে। 
অন্ধ যে, সে বোঝে না আলো, 
পূর্ণিমা কিংবা অমাবশ্যা কেমন অন্ধকার কালো।
জগৎ তার আধারে খচিত,
দৃষ্টিমান করে শুধু জগৎ কে শোভিত।
সুজনে সুগান গায় সত্যের লাগি,
কুজনে কুরব করে মিথ্যার লাগি। 
এ পৃথিবী বহুরূপী কত লোক সকল,
একেক জন বাস করে যে যার মতন।

বই

কবিতাটি জীবন বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

বিস্ময় ( সনেট একাদশ )

বিস্ময় ( সনেট একাদশ )

জন্মের ক্ষণিক পরে মুঁদিয়া রহিল_ 
শিশু!দেখিয়া নয়ন, মা যে অবিচল।
মনের প্রত্যয় দুলে,আঁখিপাতে জল;
মাতৃ র  স্বরূপ কহে 'এ যে তাঁর ছল'। 
পরিজনে হতভম্ব শোক দূঃখ ভারে; 
শান্তনার বাণী হেন খুঁজে নাহি পায় ।
খুলে দ্বার, পদ্ম-দলে মিট মিট জ্বলে ;
শান্তিপুরে বহে বায়ু মনে- প্রাণে তায়।

জীবন নদীর ধার আঁধারের ভারে;
মানসের স্বচ্ছ অম্বু ঘোলা মনে হয়।
কর্মফলে দেয় ধন,সেই দিতে পারে;
কর্মযোগে শত বাধা তবু করো জয়।
যুধিষ্ঠির,যোগী- নিষ্ঠা, রাখ যদি ধরে; 
বিম্ব তার পরে কুলে, জীবনে নিশ্চয়।

বাবুল আচার্যী   31/01/2018

দুইয়ে দুইয়ে চার হলো না সেদিন

দুইয়ে দুইয়ে চার হলো না সেদিন

তুমি হেরে গিয়েও তোমার 
হার হলো না যেদিন,
দুইয়ে দুইয়ে চার হলো না সেদিন।

মেঘ ছিল না আকাশে তাই 
চোখের তারায় প্রায় সবই 
দেখতে পাই।  
ঠোঁটের মতোই লাল প্রান্তরে
কথা ছিল লুকোনো,
কিছুটা ছিল তার বৃষ্টি ভেজা 
কিছুটা রোদে শুকোনো।  

হিসাব ছিল অন্য খাতায়,
হিসাব ছিল নীরবতায়। 
দেখেও না দেখার এক 
কাছে আসায়, 
মেঘের দিনের রোদের আশায়।
কথা বলায় আর না বলায়।  

সেই থেকেই হাতের ওপারে
মুঠো করে রাখা একটা 
কিছু গোপন।  
কেউ জানে না
কারন 
কেউ বলেনি।  
তুমি আমি দুজন জানি, 
কারন আর কেউই  
শুনেনি।   
   
তোমার আমার হিসেব  
অন্য খাতায় লেখা।  
আমার চোখের কোনায় কোনায় 
তোমার স্বপ্ন দেখা।  

হেরে গিয়েও হার হলো না যেদিন, 
দুইয়ে দুইয়ে চার হলো না সেদিন।

শব্দের কোন রঙ নেই

শব্দের কোন রঙ নেই

শব্দের কোন রঙ নেই , 
তবুও শব্দে শব্দে আঁকি প্রেমের রূপ – 
পথের ধারে জারোয়া ছেলেটার সেই শান্ত মুখ,
সেই দুই চোখ , অপলকে তাকিয়ে ছিল শুধু-
মনে হল যেন প্রেমের কোন ভাষা নেই – শুধু অনুভব ,
প্রেম যেন এমনই নীরব ,শান্ত চিরকাল  ।
গভীর স্বচ্ছ জলে রঙ্গিন মাছের ঝাঁক চুম্বন আঁকে ডুবন্ত প্রবাল দেহে –
ওরা জানে প্রেম এমনই হয় -  
আমার প্রথম প্রেম ,তাকে আমি রেখে এলাম আন্দামানের এক সমুদ্র সৈকতে
সুনামিতে উঠে আসা মৃত প্রবালের কান্নায় ,
তাকে আমি ভাসিয়ে দিলাম স্বচ্ছ সমুদ্র জলে –
গভীর অরণ্যর পাখিদের গানে গানে , উঁচু উঁচু গাছের মাথায় ছেড়া ছেঁড়া আকাশ কোলে ,
সাদা বালির ওপর বিছানো ভাঙ্গা ঝিনুকের বুকের ভিতর 
আমি তাকে রেখে এলাম –
সে এক গোধুলি বেলা গভীর ঘন জঙ্গলে  
আমাকে ডুবিয়ে রাখে তার চোখের ভিতরে এক নীল মায়াবী প্রেমে-  
সে হারিয়ে গেছে চির তরে ঠিকানা বিহীন পথে-  
কিছু মিথ্যে শব্দরা শুধু গল্প বোনে কবিতায় ,
এক মিথ্যে জীবনে মিথ্যে কবিতারা  খোঁজে  রঙ –
ওরা যে বোঝেনা শব্দের কোন রঙ নেই ,
প্রেমের কোন ভাষা নেই ।

''ভাল থাকার অঙ্গীকার''

''ভাল থাকার অঙ্গীকার''

আরেক টা আকাশ তোমার যদি থাকে 
আরো একটু আলো যদি মেশাই তাতে
তুমি কি স্বপ্ন বলবে তাকে ?
যুক্তি বিদ্যার দোয়াই দিয়ে আর লুকিও না আমাকে ।

আমি আজও সেই নিতান্ত সাধারণ 
তোমায় সূখি করার জন্যই করি নিত্য দিনযাপন
আজও সিগালের ঝাকে ডানা মেলে উড়ি !
দিনবদলের আশায় আজো - দেখি স্বপ্ন ভুরি ভুরি ।

আমার নেই কোন শেল কিংবা ডিনামাইট ভাবনার
বিস্ফোরিত হতে চাওয়া সাম্যবাদ অব্দের,
আছে মেঠো পথ, নদী- নালা, সমুদ্র - পুকুর 
আছে শিশির - আছে নব কিশোরীর পায়ের নুপুর ।

শুধু ভালবেসো - ঘৃনার ব্যবধান মুছে দাও
চলো ভুলে যাওয়ার খেলা ভুলে যাও তুমিও
জীবন থেকে চুইয়ে চুইয়ে জমা হওয়া আলো
আজ আমাদের এখানে সংসার - ভাল থাকার অঙ্গীকার তো ভাল ।